WiFi 5 vs WiFi 6 পার্থক্য কোথায়?

আপনার কি কখনো মনে হয়েছে আরে আমার ল্যাপটপে তো ওয়াইফাই সিক্স তাহলে তো ইন্টারনেট অনেক ফাস্ট হওয়ার কথা তাই না? কিন্তু আমার ল্যাপটপের নেট এত স্লো কেন? হয়তো কারণ আপনার রাউটারটা এটা অনেক ওল্ড জেনারেশনের। ওয়াইফাই টেকনোলজি কিন্তু এখন অনেক আপগ্রেড হয়েছে। যাই হোক আজকে আমরা কথা বলব ওয়াইফাই 5 আর ওয়াইফাই সিক্স এর মধ্যে পার্থক্য নিয়ে। না এটা শুধু কিন্তু একটা স্টেপ নতুন মডেল না। এটা এমন একটা আপগ্রেড যেটা আপনার নেটওয়ার্কের ট্রাফিক জ্যাম সরাসরি ক্লিয়ার করে দিতে পারে। তাই যদি জানতে চান কেন তাহলে বলব ওয়াইফাই সিক্স শুধু ফাস্ট না বরং অনেক স্মার্ট। তাহলে একটু ডিটেইলে আলোচনা করি। চলুন শুরু করা যাক।

WiFi 6

ওয়াইফাই হলো Navigating ieee 802.11 standard এর উপর ভিত্তি করে তৈরি একটা টেকনোলজি। যেমনটা আমরা জানি এটা হচ্ছে একটা ওয়ারলেস কমিউনিকেশন টেকনোলজি যার উপর আমাদের পুরো টেক ওয়ার্ল্ড অনেক ডিপেন্ডেন্ট। এই ওয়াইফাই কাজ করে হার্ডওয়ার প্লাস সিগনাল ফ্লো মিলিয়ে থাকে একটা ওয়াইফাই চিপসেট। যেটা মূলত ট্রান্সিভার মানে ট্রান্সমিটার প্লাস রিসিভার একসাথে। এই চিপ একদিকে রেডিওয়েফ ট্রান্সফার করে। আবার অন্যদিকে রেডিওয়েফ রিসিভ করে। তারপর ওয়াইফাই চিপের সাথে কানেক্ট থাকে একটা বা মাল্টিপল এন্টেনা।

এই এন্টিনাগুলো রেডিও ওয়েব সেন্ড করে আর রিসিভ করার কাজ করে। তারপর আরএফ ফ্রন্ট ইন মডিউল এটা ওয়াইফাই সিগন্যালকে সঠিকভাবে প্রসেস করে যাতে করে ইফিশিয়েন্টলি ট্রান্সমিট ও রিসিভ করা যায়। তারপর বেস ব্যান্ড প্রসেসর যা আরএফ সিগন্যালকে ডিজিটাল ডেটাতে কনভার্ট করে। তারপর মডুলেশন টেকনিক এর মাধ্যমে সিগনাল রাউটারে গিয়ে পৌঁছে ইন্টারনেট থেকে ডাটা নিয়ে আবার রিভার্স প্রসেসে আপনার ডিভাইসে ইন্টারনেট পাঠায়। তো এটা হচ্ছে ওয়াইফাই কিভাবে কাজ করে এটার একদম বেসিক একটা ডিটেইলস। এটা আমরা জানলাম যাতে করে ওয়াইফাই 5 আর ওয়াইফাই সিক্স এর মধ্যে যে মেইন ডিফারেন্স সেটা আমরা বুঝতে পারি।

WiFi 5

প্রথমে ওয়াইফাই 5 এর টেকনিক্যাল ডিটেইলস জানি। ওয়াইফাই 5 এর ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে 802.11 এ। কোন ডিভাইসের স্পেসিফিকেশনে যদি আপনি 802.11 এ দেখেন তাহলে বুঝবেন সেই ডিভাইসেই আছে ওয়াইফাই 5। তো ওয়াইফাই 5 এসেছে 2014 সালে।আর তখনকার এটার মেইন পারপাসটা ছিল স্পিড বাড়ানো। ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড শুধু 5 g গিগাহHz ব্যান্ড ইউজ করা যায়। এর মানে হলো কম ইন্টারফেন্স। কিন্তু রেঞ্জ কিন্তু তুলনামূলক কম। তারপর মডুলেশন ব্যবহার করে 256 কিউ এএম সহজ করে বললে প্রতি সিগনাল সাইকেলে বেশি ডেটা ট্রান্সফার করা যায়।

এরপর চ্যানেল উইথ সাপোর্ট করে 20 মেগা, 40 মেগা, 80 মেগা আর 160 মেগাহz চ্যানেল। তো চ্যানেল উইথ যত বেশি হয় তত বেশি কিন্তু ডেটা একসাথে যাবে। কিন্তু ইন্টারফেন্সও কিন্তু বাড়তে পারে। আচ্ছা এরপর এমিও মিমো। এমিও মিমো মানে হচ্ছে মাল্টি ইউজার, মাল্টি ইনপুট আর মাল্টি আউটপুট। তো ওয়াইফাইফ এমও মিমো কিন্তু শুধু ডাউনলিংকে কাজ করে। মানে রাউটার একসাথে একাধিক ডিভাইসে ডেটা পাঠাতে পারে কিন্তু আপলোডের জন্য একসাথে করতে পারে না। তারপর ওএফডিএম মানে অর্থগোনাল ফ্রিকোয়েন্সি ডিভিশন মাল্টিপ্লেক্সিং। ডেটাকে অনেক ছোট ছোট সাব ক্যারিয়ারে ভাগ করে পাঠানো হয়। ফলে

স্পিড কিন্তু ভালো থাকে কিন্তু অনেক ডিভাইস একসাথে কানেক্ট করলে ল্যাটেন্সি বেড়ে যেতে পারে। এখন যদি রিয়াল লাইফ পারফরমেন্সের কথা বলি। ধরেন আপনার বাড়িতে ওয়াইফাই ফাইভ রাউটার থাকে তাহলে আপনি হয়তো স্পিড পাবেন 1জিবিপিএস থেকে 3.5 জিবিপিএস পর্যন্ত। যদি আপনার ইন্টারনেট প্যাকেজ এত স্পিড দেয় আর কি। কিন্তু একসাথে অনেক ডিভাইস কানেক্ট করলে আপনি লক্ষ্য করবেন নেট স্লো হয়ে যাচ্ছে ভিডিও বাফার হচ্ছে অনলাইন গেমের পিং লাফাচ্ছে এগুলো মূলত হয় ওয়াইফাই 5 এর এই লিমিটেশনের কারণে যাই হোক এখন আমরা জানবো ওয়াইফাই 6 নিয়ে ওয়াইফাই 6 যার অফিশিয়াল নাম হচ্ছে 802.11 এ এক্স এসেছে 2019 সালে।

এটা কিন্তু শুধুমাত্র স্পিড বাড়ানোর জন্য আপডেট না বরং একসাথে বেশি ডিভাইস হ্যান্ডেল করা, ল্যাটেন্সি কমানো আর পাওয়ার সেভ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। কারণ আজকাল একটা বাড়িতে অফিসে শুধু ফোন বা ল্যাপটপ না স্মার্ট টিভি, স্মার্ট স্পিকার, আইটি ডিভাইস, গেম কনসোল সব মিলিয়ে নেটওয়ার্কের ভিড় লেগে যায়। তাই অবশ্যই এখানে ওয়াইফাই সিক্স এর প্রয়োজনটা বেশি। সেটা কিভাবে তা বুঝতে এখন আমরা দেখবো টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন।

ওয়াইফাই সক্স এর ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড 2.4 GH প্লাস 5 GH দুইটা ব্যান্ডে ইউজ করাযায়। 4 গিগাহে বেশি রেঞ্জ কম স্পিড আর 5 g গিগাহে বেশি স্পিড বাট কম রেঞ্জ বাট রাউটার পরিস্থিতি অনুযায়ী সেরা ব্যান্ডটা বেছে নিতে পারে তারপর মডুলেশন 1024 কিউ এএম ব্যবহার করে ওয়াইফাই ফাইভ এ যেটা ছিল 256 বা 256 তো বলা যায় অনেকটাই কিন্তু বেড়েছে মানে প্রত্যেক সিগনালে সাইকেলে আরো বেশি করে ডাটা প্যাক করা যায় রিয়েল লাইফে প্রায় 25% স্পিড গেইন আসে এরপর ওয়াইফাই 5 এ ওএফডিএম ছিল কিন্তু সেটা একসময় একটা ডিভাইসের জন্য ওয়াইফাই সিক্স এ যেই ওএফডিএম এসেছে সেখানে এখানে চ্যানেলকে অনেক ছোট ছোট সাব চ্যানেলে ভাগ করে।

একই সময় একাধিক ডিভাইসে ডেটা পাঠানো যায়। ব্যাপারটা কিন্তু জোস। এতে করে অনেক ডিভাইসে একসাথে কানেক্টেড থাকলেও ল্যাগ বা স্লো ফিল করবেন না। বিজি নেটওয়ার্কেও ডাউনলোড আপলোড স্পিড কিন্তু স্টেবল থাকবে। আচ্ছা তারপর এমিও মিমো। ওয়াইফাই 5 এ এমও মিমো শুধুমাত্র ডাউনলিংকে কাজ করতো। বাট ওয়াইফাই সিক্স এ কিন্তু আপলিংকেও কাজ করে। মানে একসাথে একাধিক ডিভাইস রাউটারকে ডেটা পাঠাতে পারে। যার ফলে ল্যাটেসি কিন্তু অনেক কমে যায়। ওয়াইফাই সিক্স এ আছে বিএসএস কালারিং। ব্যাপারটা সহজে বলি। ওয়াইফাই সিগনাল অনেক সময় পাশের বাসার রাউটার থেকে বা পাশের কোন রাউটার থেকেওইন্টারফেন্স পেয়ে থাকে।

এইজন্য ওয়াইফাই সিক্স এ প্রত্যেকটা নেটওয়ার্কে একটা এক একটা করে কালার আইডি দেওয়া হয়। যাতে ডিভাইস বুঝতে পারে কোন সিগনালটা নিজের আর কোনটা পাশের বাসার নেইবারের। এতে করে ইন্টারফেন্স কিন্তু অনেক কমে। আর স্পিড যথেষ্ট স্টেবল থাকে। আরেকটা ইম্পর্টেন্ট জিনিস ওয়াইফাই সিক্স এ আছে টার্গেট ওয়েক টাইম বা টিডব্লিউটি। দেখেন আমরা যেসব আot ডিভাইস বা ব্যাটারি চালিত ডিভাইস ইউজ করি এগুলো সবসময় যদি অন থাকে তাহলে কিন্তু পাওয়ার কনজামশন বেড়ে যায় আর কি। তো TWT এই ফিচারটা দিয়ে রাউটারে ডিভাইস জানায় যে কখন ডেটা পাঠাতে বা রিসিভ করতে হবে। আর

বাকি সময়টা ডিভাইস কিন্তু স্লিপ মোডে থাকবে। এতে করে কিন্তু ব্যাটারি লাইফ অনেক বেড়ে যায়। এন্ড লাস্ট ওয়ান ওয়াইফাই 6ক্স এর স্পিড কিন্তু অনেক বেড়েছে। ওয়াইফাই 5 এর হাইয়েস্ট স্পিড ছিল 3.5 Gbps। সেখানে ওয়াইফাই 6ক্স এ হাইয়েস্ট স্পিড প্রায় 9.6 Gbps। তবে বাস্তবে আপনার ইন্টারনেট প্ল্যান আর রাউটার কনফিগারেশন অনুযায়ী কিন্তুপারফরমেন্স আসবে। তো রিয়েল লাইফ পারফরমেন্সের কথা যদি বলি ওয়াইফাই 6 শুধুমাত্র স্পিডেই ফাস্ট না। নেটওয়ার্কে অনেক স্মার্ট। একসাথে অনেক ডিভাইস কানেক্ট হলেও ল্যাটেসি কিন্তু কমই থাকবে। অনলাইনগেমে পিং স্টেবল হবে। স্মার্ট ডিভাইসগুলো কম পাওয়ার কনজিউম করবে। আর আর কাছাকাছি অন্য রাউটারের কারণে নেট স্লো হওয়ার যে পসিবিলিটিস সেটা কমে যাবে। আশা করি আজকের Article থেকে আপনারা ওয়াইফাই 5 আর ওয়াইফাই সিক্স এর মধ্যে যে মেইন পার্থক্যটা সেটা বুঝতে পেরেছেন। যদি Article ভালো লাগে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর যে কোনো কোয়ারিস থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। আজ তাহলে যাচ্ছি। দেখা হবে পরের কোন Article।

Sharing Is Caring:

Leave a Comment